শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
কাজী এম এ নাসের /জাবেদুল ইসলাম :
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির সদস্য চরণদ্বীপের কৃতি সন্তান আজমান বিএনপির সভাপতি জনাব শাহিনুর হিরু বলেছেন, বিএনপির কান্ডারী তারেক রহমান এর দিক নির্দেশনায় ৩১দফা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আজ ঐক্যবদ্ব। চট্টগ্রাম আন্দোলনের সুতিকাগার । বিএনপির দূর্গ । এখানে কােনাে ধরণের ভেদাভেদ নেই, কোন্দল নেই। জনাব শাহিনুর হিরু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির সদস্য দৈনিক সমর পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাতকারে একথা বলেন ।
সাবেক ছাত্রনেতা বিশিষ্ট সমাজ সেবক শাহিনুর হিরু বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ঘােষিত ৩১ দফা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে । এখানে কােনাে ধরণের দ্বিমত থাকতে পারবে না ।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবারও বলতে চাই, সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় নির্বাচনের রােডম্যাপ ঘােষণা করুন। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতের মুখােমুখি করার উদ্যােগ গ্রহণ করতে হবে। এই উদ্যােগ গ্রহণ করতে হবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীম সরকারকে। জনগণের ভােটের মাধ্যমে জনগণের কাছপ জবাবদিহিমূলক সংসদ সরকার গঠিত হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত থাকবে।
আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহিনুর হিরু বলেন, রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিবর্তন জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠলে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে আর কেউ তাঁবদার রাষ্ট্রে
পরিণত করে রাখতে সক্ষম হবে না।
শাহিনুর হিরু বলেন ,গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি দেশের স্বার্থের প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান এক ও অভিন্ন। উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য এক ও অভিন্ন। কী সেটি? সেটি হচ্ছে দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং অবশ্যই জনগণের কল্যাণ সাধন। তবে যে রাজনৈতিক দলটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে, গণতন্ত্র হারিয়ে স্বাধীন
সার্বভৌম বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম দিয়েছিল, সংবিধান, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিল, গুম-খুন-অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিল, বাংলাদেশকে একটি তাঁবদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে গণতন্ত্রকামী জনগণ দেশের স্বার্থবিরােধী অপশক্তিকে কখনোই মেনে নেবে না। তারা আজ নিষিদ্ব। নিষিদ্ব হলেও তারা যে কোনো সময় ছােবল মারতে পারে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে ।
তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন কর পলাতক স্বৈরাচার জনগণের ভোট ছাড়াই তিনবার অবৈধ সরকার গঠন করে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার আগামী দিনে অবশ্যই সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
শাহিনুর হিরু বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন তাদের আমি বলতে চাই, লুটপাট ও দুর্নীতির শত শত কােটি টাকা হাতে নিয়ে সারা দেশে স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয় নির্বাচনে পলাতক স্বৈরাচারর জন্য পুনর্বাসিত হওয়ার একটি সুবর্ণ সুযােগ। যারা বলছেন তারা হয়ত এই বিষয়টি বিবেচনা করেননি। আমি অনুরোধ করব বিষয়টিকে এভাবে বিবেচনা করার জন্য।
বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের স্বাধীনতার বার্তা উপেক্ষা করে পতিত পলাতক স্বৈরাচার দীর্ঘ দেড় দশক স্বাধীন বাংলাদেশকে তাঁবদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন বাংলাদেশকে তাঁবদার রাষ্ট্রে পরিণত করার দুঃসাহস না দেখায়, পরাজিত তাঁবদার অপশক্তি ও তাদের দােসররা আর যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেটিই হােক বাংলাদেশের আজ এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।
তিনি বলেন, জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায় নিশ্চিত করা না গেলে শেষ পর্যন্ত কোনাে সংস্কারই হয়ত টেকসই হবে না। এ কারণেই রাষ্ট্র-রাজনীতির গুণগত সংস্কার এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ এবং নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ল আসছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহিনুর হিরু বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঘােষনা অনুযায়ী ডিসেম্বরই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে । রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দাবি জানাবে এটাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রীতি। অথচ আমরা খেয়াল করছি গত কিছুদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে দেশে এমন একটি আবহ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানােই যেন এক অপরাধ। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অবজ্ঞা সূচক বক্তব্য-মন্তব্য কি পলাতক স্বৈরাচারকে আনন্দ দেয়। অপরপক্ষে এটি গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য অপমানজনক। রাষ্ট্র-রাজনীতি মেরামতের জন্য সংস্কারের কর্মযজ্ঞ চলছে। তবে চলমান সংস্কারের জন্য যদি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিকে অবজ্ঞা করত হয় তাহল সংস্কারের তাৎপর্যটা কি? এটি বহু মানুষের প্রশ্ন আজ।
হিরু বলেন, দেশের প্রতিটি দল সংস্কারের পক্ষে। তারপরও সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেন এত সময়ক্ষেপণ করছে। এই নিয়েও জনগণের মনে ধীরে ধীরে প্রশ্ন বেড়ে চলছে।
তিনি আরো বলেন ,বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা, তাই কারো সাথে বৈরিতা নয়, অযথা কাউকে শত্রুতা বসত যেন হয়রানি করা না হয়, সেদিকে নেতা ও কর্মীদের নজর রাখতে হবে । আগামী নির্বাচনের জন্য এখন থেকে সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহিনুর হিরু বহু প্রতিক্ষিত কালুরঘাট সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলাবাসীর পক্ষ থেকক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নির্ধারিত সময় কাজটি সম্পাদন করারও আহবান জানান ।
আপনার মন্তব্য লিখুন