বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
৭নং চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী হতে ইচ্ছুক জাবেদুল ইসলাম বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: আলোচনার শীর্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইকবাল রাষ্ট্রপতিকে কালুরঘাট নতুন সেতুর কাজ ত্বরান্বিত করতে অনুরোধ করলেন অধীর বড়ুয়া চান্দগাঁও থানায় চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার আমুচিয়া ইউনিয়নবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দিদারুল আলম নেভী ডায়মন্ড সিমেন্ট লি: এর চেয়ারম্যানের বড় বোন জোলেখা বেগমের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক বোয়ালখালীতে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সম্পন্ন হলো সিইউসিবিএ গ্রান্ড নাইট ২০২৬ বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়াবাসী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চায়

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে প্রতারণার ফাঁদ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘বিজ্ঞাপন বাজার’!

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

**বিচারকের স্বাক্ষর ছাড়াই কথিত কর্মকর্তার যোগসাজশে নিজের ইচ্ছামত ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিত সেই বিজ্ঞাপন বাজার এজেন্সি।

**প্রতারক ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বিচারকের।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে উঠে আসা মোহাম্মদ ওয়াজেদ নামের এক বেকার যুবককে চাকুরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বিজ্ঞাপন এজেন্সি ‘এডব্যাংকের’ মালিক প্রয়াত জাহিদ হাসান। প্রথমে অফিস পিয়ন হিসেবে অল্প বেতনের চাকুরি শুরু করেন তিনি। এরপর মালিকের সুদৃষ্টি থাকায় নিজের হাতেই ওয়াজেদকে সব কাজ শেখান তিনি। কিন্তু সময়ের পালাক্রমে সেই এডব্যাংকের মালিককেই অসুস্থ অবস্থায় ল্যাং মেরে তার সব পাটি ভাগিয়ে নিয়ে ওয়াজেদ নিজেই রাতারাতি খুলে বসেন নতুন আরেকটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি ‘বিজ্ঞাপন বাজার’। তার সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ভুয়া বিল বানানো, মানুষকে হুমকি দিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপানোর পাশাপাশি এবার বেরিয়ে এসেছে ওয়াজেদের চাঞ্চাল্যকর অপরাধের আরেক তথ্য। চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে সে টাকার বিনিময়ে খুঁটি স্থাপনে প্রতারণার ফাঁদ। এই চক্রে তার সঙ্গে জড়িত হন অর্থঋণ আদালতের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী।
শুধু তারাই নয়, আদালতের বিচারকের নাম ভাঙিয়ে এই অপরাধে জড়িত করা হয় বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও। আওয়ামী লীগের ক্ষমতা বিস্তার করে এই ওয়াজেদ অর্থঋণ আদালত থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। পটপরিবর্তনের পরও সমানভাবে বেপরোয়া তিনি। বিচারকের স্বাক্ষর ছাড়াই কথিত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজের ইচ্ছামত ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিত সেই বিজ্ঞাপন এজেন্সি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও আদালত পাড়ায় সম্প্রতি বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে সেই ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থঋণ আদালতের বিচারক। বলেছেন, কোন এজেন্সিকে বিজ্ঞাপন না দিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় সব পত্রিকায় নিয়মানুযায়ী দেওয়া হবে বিজ্ঞাপন। এই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিবে আদালত।
শনিবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত-১ এর বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) হেলাল উদ্দীনের কাছে নিউজ পেপার এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (নিউজ) চট্টগ্রামের পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। অভিযোগে তিনি লিখেন, চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত কর্তৃক ডিএফপি তালিকাভূক্ত পত্রিকাসমূহের নামে ইস্যুকৃত নোটিশ/নিলাম বিজ্ঞাপনসমূহ জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে সরাসরি প্রদান করা হচ্ছে না। সেগুলো অর্থঋণ আদালতের কতিপয় কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রদান করা হচ্ছে কথিত ‘বিজ্ঞাপন বাজার’ এজেন্সিকে। ফলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর মধ্যে বিজ্ঞাপন ও বিল প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ নিয়ে শনিবার সব স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার চট্টগ্রাম অফিসের কর্মরত বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) হেলাল উদ্দীন। সব অভিযোগ শুনে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার না করে নিয়মানুযায়ী সব জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও বিল প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া এই ঘটনায় জড়িত আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ‍তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউজ পেপার এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (নিউজ) চট্টগ্রামের এক সদস্য বলেন, ওয়াজেদ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচয় দিলেও এখন ভোল পাল্টে নিজেকে জামায়াতকর্মী হিসেবে উপস্থাপন করেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঙ্গে ছিল তার বেশ হৃদ্ধতাপূর্ণ সম্পর্ক। তার র‌েফারেন্সে আদালত পাড়া তিনি হাতের মুঠোয় রেখেছিলেন। সাতকানিয়া, বান্দরবান ও লোহাগাড়ায় তিনি আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর ছাড়াই কোটি কোটি টাকার ভুয়া বিল তুলে খেয়ে ফেলেছেন। তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
তিনি আরও বলেন, অর্থঋণ আদালতের বিচারকের কাছে এমন বেশ কিছু ভুয়া বিল উপস্থাপন করা হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে তথ্যচিত্র, কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিল হয়েছে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু সেটা তিনি ভুয়া বিল বানিয়ে ৭০-৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিচারকের সাক্ষর ছাড়া ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউজ চট্টগ্রামের আরেক সদস্য বলেন, চট্টগ্রামের কাজীর দেউরীর কর্ণফুলী টাওয়ারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অফিস করতেন। এস আলমের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সেই বেল্ডিংয়ে অফিস করা সাংবাদিকদের তোপের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের কাজই ছিল কোন নেগেটিভ নিউজ পত্রিকায় নিউজ প্রচার হলে তাকে হুমকি দিয়ে বিজ্ঞাপন আদায় করা। এমন হাজার হাজার ভুক্তভোগী রয়েছে যাদের তিনি ফাঁদে ফেলে ভুয়া নিউজ করার হুমকি দিয়ে বিজ্ঞাপন আদায় করেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ওয়াজেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন।

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD