শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
*রিপোর্টার: নুর মাহুর জান্নাত:
বিয়ের প্রলোভনে ২০ বছরের এক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে যায় ওবায়দুল করিম (২৫)। এক মাস একটি বাসায় আটকিয়ে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে করিম ও তার সহযোগীরা। ১ মার্চ তার পরিবারের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করালে ৪ মার্চ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নগরের পাঁচলাইশ ও পটিয়া থেকে ৬ মার্চ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। হালিশহর থানা মামলা নং ৬, তারিখ ৫/৩/২০২৪।
সিএমপি’র পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব নিহাদ আদনান তাইয়ান মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায়, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মো: আশরাফুল করিম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব মুকুর চাকমার তত্ত্বাবধানে, হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. কায়সার হামিদের নেতৃত্বে, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব মোজাহেদুল হাসান সঙ্গীয় এসআই/ মো. সাইফুল ইসলাম, এসআই/ মো. সোহেল রানা, এসআই/ মোহাম্মদ কহিনুর ইসলাম, এসআই/ মোবিনুল ইসলাম, এসআই/ মো. নজরুল ইসলাম, এএসআই/ আব্দুল হাই বাবলু, এএসআই/ সাদ্দাম হোসেন, এএসআই/ বেলায়েত হোসেন সাহেদ ০৬/০২/২০২৪ খ্রি. তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার এজাহারনামীয় পলাতক ওবায়দুল হক প্র. ওবায়দুল করিমকে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন বড়লিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিএমপি’র পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত মো. সেলিমকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত ওবায়দুল হক প্র. ওবায়দুল করিম চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা এবং মো. সেলিম সিএমপি’র পাঁচলাইশ থানা এলাকার ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ওবায়দুল করিম (২৫) ও মোহাম্মদ সেলিম (৪২)। পুলিশ জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা বিচারকের কাছে ১৬৪ ধরায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার ছোটপুল এলাকায়।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কায়সার হামিদ জানান, গ্রেফতার করিমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই তরুণীর। গত ২৬ জানুয়ারি তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে করিম পাঁচলাইশের কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় একটা বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। এর পর তাকে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যান করিম। সেখানে পালাক্রমে কয়েকজন ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এতে ওই তরুণী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যায় জড়িতরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ১ মার্চ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করালে ৪ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ওসি মো: কায়সার হামিদ বলেন, গ্রেফতারকৃত সেলিম ও করিম আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে ভিকটিম এর বড় ভাই বলেন , আমার বোনের উপর যে নির্যাতন হয়েছে তা এই সভ্য সমাজে কাম্য নয়, তিনি দোষীর উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানিয়েছেন ।
আপনার মন্তব্য লিখুন