শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
বাবর মুনাফ:
চট্টগ্রামে এবার শারদীয় দুর্গাপূজায় নতুন প্রায় ৪০০টি পূজামণ্ডপ যুক্ত হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন ১২ হাজার আনসার ও পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি গুজব, অপপ্রচার ও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে মণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
এদিন বোয়ালখালীর বীণাপাণি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গাকে অন্নপূর্ণা রূপে উপস্থাপনের ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখে মুগ্ধ হন জেলা প্রশাসক। মণ্ডপটির আলোকসজ্জা ও কারুকাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অনেক মন্দির ও পূজামণ্ডপ দেখেছি। কিন্তু এখানকার ভাবনাটা খুবই আধুনিক ও ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। এতে মেধার অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’
বীণাপাণি পূজামণ্ডপে এবার দেবী দুর্গাকে অন্নপূর্ণা রূপে উপস্থাপন করেছেন আয়োজকেরা। এর মধ্য দিয়ে মানুষের ক্ষুধা, অভাব-অনটন ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
পূজামণ্ডপের সভাপতি প্রবীর চৌধুরী বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা অন্ন ও প্রাচুর্যের দেবী। তিনি দেবী পার্বতীরই একটি রূপ। এখানে দুর্গাকে শুধু অসুরবিনাশিনী শক্তি হিসেবে নয়, মানুষের জীবনরক্ষা, মমতা ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রবীর চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মূল বার্তা হলো, পৃথিবীতে কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে, প্রতিটি ঘরে যেন খাবার থাকে।’
আয়োজকদের ভাবনার প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভাব-অনটন ও প্রত্যাশাকে উপজীব্য করে মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে। দেবী দুর্গার আগমনে মানুষের অভাব দূর হবে—এমন ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছেন আয়োজকেরা।
দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মানুষ সেখানে আসেন। তাঁদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত শীতলীকরণব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আয়োজন যত সুন্দরই হোক, দর্শনার্থীরা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে তা উপভোগ করতে না পারেন, তাহলে আয়োজনের সার্থকতা থাকে না।’
এর আগে বোয়ালখালীর মেধসমুনি আশ্রম পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। প্রায় ২৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত আশ্রমটির পূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ঘুরে দেখেন তিনি।
দুর্গোৎসব ঘিরে নিরাপত্তার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে জেলার সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হবে। এর পাশাপাশি পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টহল, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও মণ্ডপের প্রবেশপথে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।
পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার ছড়ানোর পাশাপাশি নাশকতার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ‘অনেকে নানা ধরনের গুজব বা ফেক নিউজ ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। নাশকতার চেষ্টাও হতে পারে। এসব বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সজাগ ও সচেতন আছি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বোয়ালখালী পৌরসভার প্রশাসক কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হামিদুল হক মন্নান, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএম মোদ্দাচ্ছের, মেধস মুনি আশ্রমের মহারাজ শ্রীমৎ দীপানন্দ মহারাজ, বোয়ালখালী উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রলয় চৌধুরী মুক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আপনার মন্তব্য লিখুন