শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

এ এস এম মাসুম বিল্লাহ: “জনগণ যেভাবে কথা বলবে, পররাষ্ট্র নীতি সেভাবে চলবে,” বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি ভারতকে বাংলাদেশিদের বুকে গুলি চালানোর নীতি থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্পিরিট ধারণ করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিগত সরকার জনগণের ম্যান্ডেট না থাকায় নতজানু সরকার ছিল। তারা অন্য দেশের লোকজনের সাথে মাথা নিচু করে কথা বলত। এখন থেকে জনগণের ভাষায় পররাষ্ট্র নীতি চলবে। আমরা দেশের স্বার্থে অন্য রাষ্ট্রের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলব। যারা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড করছে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই— এতদিন আপনারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। এখন আর সেই সুযোগ নেই। এখন কথা বলতে হবে এদেশের জনগণের সাথে। সুতরাং এদেশের জনগণের বুকে গুলি চালানো থেকে ফিরে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে চায় এবং তিন বেলা পেট ভরে খেতে চায়। কিন্তু এতদিন একটি মত প্রকাশ করতে গেলে ১০ বার ভাবতে হতো। গান গেয়ে বা কবিতা লিখে জেল খাটতে হতো। একটি কথা বললেই পুলিশ, র্যাব বাসা বাড়িতে হানা দিত। আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। কুমিল্লার মানুষ শিখিয়েছে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়, এবং এই কুমিল্লা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।”
ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “মন্ত্রণালয়ে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না; আমার জায়গা রাজপথ। কুমিল্লায় আপনাদের কাছে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ৫৩ বছরের জঞ্জাল এক মাসে সরানো সম্ভব না, তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে। এবার ত্রাণের চাল চুরির কোনো নিউজ চোখে পড়েনি, বিমানবন্দরে কেউ হয়রানির শিকার হচ্ছে না, ঘুষ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামীর বাংলাদেশ চলবে আপনাদের রূপরেখায়। আপনারা প্রস্তাবনা দেবেন, আমরা কেবিনেটে বাস্তবায়ন করব।”
শহীদদের তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার, আবদুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
আপনার মন্তব্য লিখুন