রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
আসন্ন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ত্যাগী নেতা শরীফ হোসেনকে দেখতে চায় ৩৮ নং ওয়ার্ডের ওয়ারীবাসী আগামী উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন :মতবিনিময় সভায় বদরুচ মেহের ২৫নং রামপুর ওয়ার্ড বাসীর কাছে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী দিদারুল আলম নেভির নির্বাচনী কাঠামো আমুচিয়া ইউনিয়নের জনগণের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনের নির্বাচনী কাঠামো জাতীয়তাবাদী চর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা করলে দলীয় আদর্শ আরও প্রসারিত হবে — জাহিদুল করিম কচি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও মিরেশ্বরাই কৃষক দলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক : শাহনুর শাহিন হিরু জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক : বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম ডায়মন্ড সিমেন্টের ডিলারদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত পোপাদিয়া সমাজ কল্যাণ সমিতি গঠিত: সভাপতি জসিম সম্পাদক সাইমন

বোয়ালখালী বিএনপি একাদিক গ্রুপে বিভক্ত-আসল নেতৃত্ব কার হাতে?

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

এম এ মন্নানঃ বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জেলার মধ্যে বি এন পি’র দূর্গ হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা  বিএনপি। এ পর্যন্ত যে কটা সুষ্ঠু জাতীয়  নির্বাচন হয়েছে তার সবগুলোতেই জয় পেয়েছিল বি এন পি। সেই বিএনপি গত ফ্যাসিস্টের পুরোটা সময় ধরে এলাকায়  তেমন শক্ত কোন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে না পারলেও  গত ৫ আগস্টের সবকার পরিবর্তনের পর চার- পাঁচ খন্ডে বিভক্ত হয়ে  কোমর বেধে  মাঠে কাজ করছেন তারা ।  তবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে নয় নিজ ঘরনার অন্যান্য নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। একদলে আছেন উপজেলা বি এন পি’র আহবায়ক হাজী ইছহাক চৌধুরী ও সদস্য সচিব হামিদুল হক মান্নান চেয়ারম্যান , তারা আবার সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারী। আবু সুফিয়ান বিগত ২০১৮ সালের একাদশ  জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে পরবর্তীতে উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দুই দুবার নির্বাচন করেন এখানে তিনি আগামী নির্বাচন কে মাথায় নিয়ে বোয়ালখালী সহ চট্টগ্রাম -৮ নির্বাচনি আসন এলাকায় সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আজিজুল হক চেয়ারম্যান ও সাবেক আহবায়ক শওকত আলমের নেতৃত্বে অপর একটি গ্রুপ ও কাজ করছেন এখানে এ গ্রুপটা হলো নগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ’র অনুসারী। এরশাদ উল্লাহ’র এ এলাকার ভোটার এবং তিনি গত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে বিএনপি’র পক্ষ হতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান এ আসনে তিনি আবার নির্বাচন করার জন্য এলাকায় গন সংযোগ করে যাচ্ছেন।অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আলহাজ্ব  মোস্তাক খান গত ২ এপ্রিল নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে ঈদ পুনর্মিলনী ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে জানিয়ে দিয়েছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম ৮-আসনে নির্বাচন করবেন। তার নেতৃত্বে মাঠে সরব রয়েছে আরো একটি গ্রুপ। এ গ্রুপে তার সাথে আছেন  উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সুজন,ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ ইউচুপ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ কামাল উদ্দিন সহ উল্লেখযোগ্য আরো বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী নেতা। অন্যদিকে কর্মী সমর্থকদের বৃহৎ একটা অংশ নিয়ে  সরবে নীরবে মাঠে রয়েছেন গত উপজেলা নির্বাচনে আপন ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার অভিযোগে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর সভার মেয়র হাজি আবুল কালাম আবু । এর বাইরে সম্প্রতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলালে উদ্দিনের আরো একটি গ্রুপের নাম শুনা যাচ্ছে এখানে । এতে কাজ করছেন উপজেলা নেতা রেজাউল করিম মুন্সী সহ আরো বেশ কয়েকজন। মীর হেলাল কে সামনে নিয়ে নতুন করে এ গ্রুপটি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা । ইতিমধ্যে পৃথক ২/৩ টি সভায় সোডাউন করেছেন গ্রপটি। তবে অন্যান্যদের মতে এসব সভায় মীর হেলালের উপস্থিতি লক্ষ্য করা না গেলেও ব্যানার-ফেষ্টুনে তাঁর ছবি ব্যাবহার করে উপস্থিতি জানান দিয়ে  যাচ্ছেন এ গ্রুপটি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এসব গ্রুপগুলোর মধ্যে  কেউ কারো থেকে কোন অংশে কম যান না। চার- পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিদিনই করে যাচ্ছেন  পৃথকভাবে  সভা-সমাবেশ, ইফতার মাহফিল,মিছিল মিটিং সহ নানান কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে লোক সমাগমের জন্য প্রতিযোগিতাও হচ্ছে না তা নয়, এক পক্ষ একটা গরু জবাই করলে অপর পক্ষ করছেন ২ টা গরু । এসবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে নিজ -নিজ গ্রুপের কর্মি সমর্থকদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন এসব পদধারী দায়িত্বশীল নেতারা । ফলে এতে বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে তৃণমূল নেতা -কর্মীদেরকে। আবুল কালাম নামের তৃণমূলের এক কর্মি বলেন সব গ্রুপ তাদের পক্ষে ডাকে, যেহেতু দলকে ভালোবাসি তাই তাদের ডাকে সাড়া দিতে হয়। কিন্তু কোনটা আসল কোনটা নকল তা বুঝিনা। তবে নিজ দলের ভেতর এভাবে ৪/৫ টা গ্রুপ থাকা উচিৎ নয় বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর মত অনেকেই প্রশ্ন চার-পাঁচ খন্ডে বিভক্ত বোয়ালখালী বি এন পি’র আসল নেতৃত্ব এখন কার হাতে? এভাবে চললে আগামীতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে কি বিএনপি এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এখানকার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে। গ্রুপ বারি করতে গিয়ে ভিন্ন দলের কর্মীদের দিয়ে নিজ দলের সভা-সমাবেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গ্রুপের ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া বলেন অচিরেই দক্ষিণ জেলা বি এন পির আওতাধীন সকল ইউনিট শতভাগ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে,একটা সংগঠন একটা কমিটি এ নীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে কোন ভাবেই কোন গ্রুপকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না আমরা নিদের্শনা দিয়েছি সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দলকে শক্তিশালী করার জন্য এবং দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ মোতাবেক আগামীতে উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি করার সময় সবাইকে নিয়ে একটি কমিটি করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD