রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
এম এ মন্নান / এস এম ইরফান নাবিল :
কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় আজ রোববার (২৫ আগস্ট) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি স্পিলওয়ের গেট খুলে দিয়ে ছয় ইঞ্চি করে পানি ছাড়া হচ্ছে।
বর্তমানে লেকের ইনফ্লো ও বৃষ্টিপাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইনফ্লো বেশি হলে অর্থাৎ পানির লেভেল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে স্পিলওয়ে গেটের খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে জানানো হয়।
এদিকে বর্তমানে কেন্দ্রে দৈনিক ৫টি ইউনিটে সর্বোচ্চ ২১৯ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে
এর আগে গতকাল বিকেল ৩টায় কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি জরুরি নোটিশের মাধ্যমে পানি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওইদিন রাত ১০টায় পানি ছাড়ার কথা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে ২৫ আগস্ট সকাল ৮টা ১০ মিনিটে পানি ছাড়া হয়। এজন্য ভাটি অঞ্চলকে জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা বা বিপৎসীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানি ছিল ১০৭.৬৩ এমএসএল (মিন সি লেভেল)। যেখানে সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ১০৮ এমএসএল পর্যন্ত বিপৎসীমার অবস্থা সৃষ্টি হয় এবং এই পরিমাপে পৌঁছালে ছাড়া হতে পারে কাপ্তাই বাঁধের পানি।
বাঁধের ফটক খুলে দিলে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রামের ৪ উপজেলা। এতে পানি বন্দি হতে পারে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপ্তাই হ্রদের পানি ছাড়লে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালী, হাটহাজারী উপজেলার সড়ক, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পুকুর ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। কারণ প্রতিদিনই দুই বার করে জোয়ার ভাটা হয় সাগরে। জোয়ারের সময় বঙ্গোপাসাগরের পানি উজানে উঠলে এবং বৃষ্টির পানি ও হ্রদের পানি এক সঙ্গে কর্ণফুলি ও হালদা হয়ে সমুদ্রে নামতে না পারলে পানি উপচে প্লাবিত হতে পারে আশে পাশের এলাকা।
এদিকে, কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে রাউজান ও ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হ্রদের পানি প্রবেশ করলে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, নতুন করে প্লাবিত হতে পারে বোয়ালখালী ও হাটহাজারী উপজেলা। নতুন করে প্লাবিত হলে চট্টগ্রাম জেলার চার উপজেলা প্রায় ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি আমন আবাদ প্লাবিত হতে পারে।
নদী গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় বেড়ি বাঁধ ভেঙে হালদার পানি হাটহাজারী, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এখন নতুন করে কাপ্তাই বাঁধ ছাড়লে নতুন করে আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে মানুষ পানি বন্দি হওয়ার পাশাপাশি মাছের ঘের, ফসলী জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে রাত দশটায় পানি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় থাকলেও হ্রদের নির্ধারিত পরিমাণ পানি পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে গেট খোলা হবে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ড. এম এম এ আব্দুজ্জাহের জানান, পানি ছাড়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ভাটার সময় ছাড়তে চেষ্টা করি। এতে ভাটির টানে পানি যাতে সহজে নেমে যেতে পারে। তবে যখনই পানি ধারণ ক্ষমতার বেশি হয়ে যায় তখন পানি ছাড়তে হয়। আমরা এরই মধ্যে সতর্কতা জারি করেছি।
আপনার মন্তব্য লিখুন