রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
এম এ মন্নান / এস এম ইরফান নাবিল :
চট্টগ্রাম-৮ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ আবদুচ ছালাম বোয়ালখালীবাসীকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যই কাজ শুরু করেছেন । তিনি সিডিএ চেয়ারম্যান থাকাকালীন চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন । আর তাই চট্টগ্রাম-৮
আসনের মানুষ যোগ্যব্যক্তি হিসেবে আবদুচ ছালামকে সাংসদ নির্বাচিত করেছেন। আর তাই তিনি সুযোগ পেয়েই রেলপথ মন্ত্রনালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ আবদুচ ছালাম।
২৪ জানুয়ারী ২০২৪ বুধবার দুপুরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের রেস্ট হাউসে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয়ের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক ও সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আবদুচ ছালাম চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের দাবী কালুরঘাট সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে সেতুটি
বাস্তবায়নে মন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনা প্রত্যাশা করেন এবং বোয়ালখালী উপজেলার বেঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশনে গুরুত্ব ও ঐতিহ্য তুলে
ধরে নতুন চালু হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে চলাচলরত যাত্রীবাহী ট্রেনটি বেঙ্গুরা স্টেশনে থামানোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে মন্ত্রীকে সবিশেষ বিবেচনায় নেয়ার অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. কামরুল আহসান এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কালুরঘাট সেতুটির বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে ওয়াকিবহাল আছেন। তিনি বোয়ালখালীসহ দেশের প্রত্যেকটি এলাকার দুঃখ দুর্দশার খবর রাখেন এবং দুর্দশা লাঘবে অত্যন্ত আন্তরিক। তাছাড়া জাতীয় স্বার্থেই তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিশেষ যত্নশীল। কালুরঘাট সেতু দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করে রেলমন্ত্রী আরো বলেন, এটি যাতে অচিরেই বাস্তবায়ন করা যায় আমার দপ্তর থেকে আমি সব রকমের প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা করব।
আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর উপর নতুন কালুরঘাট সেতু চালু হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম।
বিকেলে নগরীর সিআরবির অফিসার্স গেস্ট হাউসে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
রেলকে নতুনত্ব দিতে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন কিনা? এমন প্রশ্নে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘রেল তো একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল। আমাদের এলাকায় ফরিদপুরে লাইন বন্ধ করে দিয়েছিল। ভাটিয়াপাড়া রেললাইন তুলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাজবাড়িতে লোকোশেড ছিল একটি। সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।’
‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রেলের অনেক শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। নতুন নতুন লাইন স্ট্রং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে পরিকল্পনা প্রত্যেকটি জেলা রেলের সঙ্গে সংযোগ করা এবং যতদূর সম্ভব জনগণকে সবচেয়ে সস্তা পরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়া। রেলকে আমরা সচল করার চেষ্টা করছি।’
‘চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেললাইনে কখন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের ট্রেন চালু হবে। সেটা কমিউনিটার ট্রেন। আমরা আগে শুরু করি। আগের বসার জায়গা করলে তারপর শোয়ার জায়গা হয়ে যায়। আমি তো শিক্ষানবিশ। আমি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি।’
‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এখানে বসিয়েছেন রেল নিয়ে তার যে আকাঙ্খা সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন, আমরা সবাই মিলে সমস্যাগুলোর সমাধান করব। রেলকে পঙ্গু অবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী এ অবস্থা টেনে তুলেছেন।’
রেলের ইঞ্জিন সংকট সমাধানে কোনো উদ্যেগ আছে কিনা জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে অনেক ইঞ্জিন আমদানি করা হয়েছে। সেগুলো আমরা পেয়েছি। আরও কিছু ইঞ্জিন আমদানি করা হচ্ছে। ১৫টি কোচ আমরা পেয়ে গেছি। আরও কিছু আসবে।’
কালুরঘাট সেতু কখন হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কালুরঘাট নতুন সেতু হতে চার-পাঁচ বছর সময় লাগবে। আমাদের সমীক্ষা শেষ। কোরিয়ান অর্থায়নে এ কালুরঘাট ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। কালুরঘাটের মতো একটি ব্রিজ করতে তো সময় লাগবে। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এটা চালু হয়ে যাবে।’
জনবল ঘাটতি ও অদক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিল্লুল হাকিম বলেন, ‘আমাদের ইতিমধ্যে নতুন কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা সেখান থেকে রিক্রুট করে তাদের ট্রেনিং দেব। অনেকের বয়স হয়ে গেছে। তারা আর কাজ করতে চাই না।’
‘এসমস্ত কারণে আগে যিনি মন্ত্রী ছিলেন তিনি আউটসোর্সিং এর চেষ্টা করেছেন। আউটসোর্সিং তো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না। কিছু কিছু জায়গায় বেনিফিট পাওয়া যাচ্ছে তবে ট্যাকনিকালি কোনো বেনিফিট হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না।’
আপনার মন্তব্য লিখুন