রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
আসন্ন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ত্যাগী নেতা শরীফ হোসেনকে দেখতে চায় ৩৮ নং ওয়ার্ডের ওয়ারীবাসী আগামী উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন :মতবিনিময় সভায় বদরুচ মেহের ২৫নং রামপুর ওয়ার্ড বাসীর কাছে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী দিদারুল আলম নেভির নির্বাচনী কাঠামো আমুচিয়া ইউনিয়নের জনগণের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনের নির্বাচনী কাঠামো জাতীয়তাবাদী চর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা করলে দলীয় আদর্শ আরও প্রসারিত হবে — জাহিদুল করিম কচি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও মিরেশ্বরাই কৃষক দলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক : শাহনুর শাহিন হিরু জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক : বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম ডায়মন্ড সিমেন্টের ডিলারদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত পোপাদিয়া সমাজ কল্যাণ সমিতি গঠিত: সভাপতি জসিম সম্পাদক সাইমন

ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের পানি সরবরাহ শুরু ডিসেম্বরেই

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

এস এম ইরফান নাবিল:
চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ শুর“ হবে আগামী নভেম্বর ডিসেম্বরে। প্রথমে সংযোগ দেওয়া হবে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইপিজেড, সিইউএফএল, কাফকো ও পটিয়া ইন্দ্রপোলের লবণ কারখানাসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেতে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, একটি শিল্প জোনে তারা একটি কানেকশন দেবে। এই কানেকশন থেকে কারখানার কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমতো পুরো কারখানায় সংযোগ দিতে পারবে। ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে বড়-ছোট মোট ১৩টি বাণিজ্যিক সংযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম।
এক দফা সময় বৃদ্ধির পর চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আরো ৬ মাস লাগবে বলে জানা গেছে। এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পটিয়া আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর শিল্পাঞ্চলে পানি সংকট দূর করার টার্গেট নিয়ে এই প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১০ লাখ মানুষকে সুপেয় পানির আওতায় আনার চিন্তা রয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহের জন্য পটিয়া বাইপাস এলাকায় ৫ একর জায়গায় এবং আনোয়ারার দৌলতপুর মৌজায় ২ দশমিক ৯৪ একর জায়গায় দুটি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।
ভাল্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। প্রকল্পের পাইপলাইনের একটি রিভার ক্রসিং ছাড়া (বোয়ালখালীর অংশ থেকে নদীর তলদেশ দিয়ে মইজ্জ্যারটেক গিয়ে উঠবে) অন্যান্য কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে দৈনিক উৎপাদন হবে ৬ কোটি লিটার পানি। উৎপাদিত পানির মধ্যে তিন উপজেলা আনোয়ারা, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলীর শিল্পাঞ্চলে ৮০ ভাগ, আবাসিকের জন্য ২০ ভাগ পানি সরবরাহ করা হবে। বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারায় ১০ হাজার আবাসিক গ্রাহকের মাঝে সংযোগ দেওয়া হবে। আগামী ৬৭ মাসের মধ্যে আমরা সার্ভিস কানেকশন দেওয়া শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। এর আগে নভেম্বর ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ দেব। এরপর প্রেসার টেস্ট করা হবে এবং পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করা হবে। আশা করছি, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইপিজেড, সিইউএফএল, কাফকোসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চল ও আবাসিকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারব।
তিনি বলেন, পুরো প্রকল্পের ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইনের কাজ শেষ হয়েছে। ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প এলাকায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং দুটি জলাধার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন কালারপুল এলাকায় একটি ক্রস কালভার্টের কাজ বাকি আছে। পানি শোধনাগারের সার্বিক কাজ ৯০ ভাগের বেশি হয়েছে। এখন পরীক্ষামূলকভাবে শোধনাগারটি চালু করা হয়েছে।
জানা গেছে, বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি থেকে পানির পাইপলাইন বোয়ালখালী মিলিটারি পুলের কাছে এসে দুই ভাগ হয়েছে। একটি অংশ চলে গেছে আহলা দরবার শরীফ হয়ে পটিয়া পৌরসভায়। অপর অংশটি শিকলবাহা ও মইজ্জ্যারটেক হয়ে কর্ণফুলী ও আনোয়ারায় চলে গেছে। কর্ণফুলী ও আনোয়ারা অংশ যাওয়া পাইপলাইনটি কালারপুল ব্রিজের কাছে এসে ক্রস কালভাটের্র কাজ করার জন্য আটকে আছে। বাকি সব পাইপলাইনের কাজ শেষ হয়েছে।
কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যবর্তী জ্যৈষ্ঠপুরার ভান্ডালজুড়ি পাহাড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে ও দুই পাহাড়ের পাদদেশে ৪১ দশমিক ২৬ একর জায়গায় গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম ওয়াসার দৃষ্টিনন্দন ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্প।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল প্রকল্পটি। তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের শুরুতে ভূমি জটিলতায় পড়তে হয় ওয়াসাকে। এজন্য তিন বছর আটকা পড়ে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয় কাজ। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রথম সংশোধিত আকারে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করে ১৯৯৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের ৮২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে কোরিয়ান ব্যাংক। বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১১৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে দিচ্ছে ২০ কোটি টাকা। এক দফা সময় বৃদ্ধির পরও নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD