রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
এম এ মন্নানঃ গতকাল ২৫ এপ্রিল ২০২৫ শুক্রবার ভোররাত অনুমান ৪,৩০ ঘটিকায় বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর -খরণদ্বীপ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর লে: কর্ণেল সালাহ উদ্দিন আল মামুনের নেতৃত্বে বোয়ালখালী সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর রাসেল,ক্যাপ্টেন জাহিন সহ সেনাবাহিনীর চৌকষ টিম এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় আটককৃতদের কাছ থেকে ৪ রাউন্ড রাইফেল এর এ্যমোনিশন,১০ রাউন্ড শর্টগানের এ্যনিমিশন,৩টি বাংলাদেশী পাসপোর্ট , বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৫টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ধরনের ২১ দেশীয় অস্ত্র, নগদ এক লাখ ৭৬ হাজার চারশত ২৫ টাকা উদ্ধার করে,
আটককৃতরা হলেন শ্রীপুর-খরণদ্বীপ এলাকার শহিদুল আলম (৩৮) মোঃ জানে আলম নান্নু (৪০) জুবায়েদ আকবর (২৬) মো. মোর্শেদ (৪৭) আটককৃতদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি,কর্নফুলী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন সহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রয়েছে বলে জানান। জব্দকৃত মালামাল সহ আটক চার আসামিকে বোয়ালখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বোয়ালখালী সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর রাসেল জানান বোয়ালখালীতে কোন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারবেনা এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। উপরোক্ত আসামিদের আটকের পরে সরজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে ঐ এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের সরকারের দোসরদের ছত্রছায়ায় কয়েকটি গ্রুপ বিভক্ত হয়ে কর্নফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে ঐ গ্রুপ পালিয়ে গেলে কয়েক মাস বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায় এবং ১১০০/১২০০ টাকার প্রতি ট্রাক বালু ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বর্তমানে বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা ঐ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ২/৩ মাস পুর্বে থেকে তাদের নেতৃত্বে কর্নফুলী নদী থেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এ অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করে। ঐ বিগত সরকারের আমলের ১১শ টাকার বালি এখন আটার শ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে। সম্প্রতি, কর্নফুলী নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে রাউজানে কয়েকটি হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে শ্রীপুর চরনদ্বীপ এলাকায় বালু নিয়ে বেশ কয়েকদিন যাবৎ বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে । এ অভিযানে এক গ্রুপের কয়েক জন আটক হলেও অন্যান্য গ্রুপের সন্ত্রাসীরা ঐ এলাকায় বালু মহাল দখল ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
আপনার মন্তব্য লিখুন