বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
নুর মাহুর জান্নাত : ইতিহাসসেরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত করেছে। দলটি ইতোমধ্যে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। অপরদিকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সংসদের বিরোধী দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
কেন্দ্র থেকে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে বিএনপি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হয়েছে। সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনে ৭৫ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে কমিশনের সূত্র অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
গতকাল গণতন্ত্রে উত্তরণের ভোট উৎসব অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় সংস্কারসম্পর্কিত গণভোট। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবার দুটি আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে দুটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয় পেলেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে সামান্য ব্যবধানে জিতেছেন। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা না হলেও বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে দলের চেয়ারম্যানের অংশ নেওয়া দুটি আসনে জয়ের তথ্য জানিয়েছে। জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে জয়লাভ করেছেন বলে দলটির ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা হয়েছে। গভীর রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে ঘোষিত ২৯৬টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ২১৩টি, জামায়াত জোট ৭৭টি (এনসিপি ৬) এবং স্বতন্ত্রসহ অন্যরা ১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-৪ ও ৬ আসনের ফল মামলার কারণে স্থগিত আছে।
জুলাই বিপ্লবপরবর্তী মুক্ত পরিবেশে গতকাল অনুষ্ঠিত নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ সংসদ নির্বাচন ঈদ উৎসবে পরিণত হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশ গণতন্ত্রে উত্তরণের চূড়ান্ত ধাপ পার করেছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অঘটন ছাড়াই অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঈদ উৎসব বলে আখ্যায়িত করেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়েছে। এ নির্বাচন মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ভোট দিয়ে সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানান।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির নুরুল আমিন, ঢাকা-২ আসনে বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত জোট উভয়েই বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
প্রথমবারের মতো এবার সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা বড় পরিসরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে আইনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ থাকলেও এর প্রচলন ছিল না। ইসির তথ্যানুযায়ী, ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসী চার লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩ জন এবং দেশের ছয় লাখ এক হাজার ৫২৪ জন। প্রায় ১ শতাংশ ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য লিখুন