রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
আদালত প্রতিবেদকঃ
প্রতারণার মামলায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের জসিম উদ্দীন সিআইপি নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মহামান্য আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করায় বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
রবিবার ৪ই ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম এই গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন বলে জানান মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এমজাদ হোসেন।
প্রতারনা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামী জসিম উদ্দিন বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব চরনদ্বীপ এলাকার খলিল তালুকদার বাড়ির মঞ্জু বেগমের ছেলে ও পিতা শ্রীপুর ভাঁ-ফকির মাজার সংলগ্ন এলাকার মো:জেবল হোসেনের ছেলে।
মো:জসিম উদ্দীন (৪৭) সহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মো:ইলিয়াছ জাফর বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মহানগর গোয়েন্দা বিভাগকে মামলার তদন্তভার দেয়া হয়। যার সি আর মামলা নং ৪৮২/ ২০২৩।
মামলার আসামীরা হলো, মো: জসিম উদ্দিন (৪৭) ও তার স্ত্রী মোছাম্মৎ রুমা আকতার (৩৯)সহ আরো ২২ জন।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দীন ও মো:ইলিয়াছ জাফর এক সময় বিদেশে যৌথভাবে ব্যবসা করত,সেখান থেকে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের ফলে মামলার বিবাদী জসিম উদ্দীন,বাদী মোঃ ইলিয়াছ জাফরকে আনোয়ারা উপজেলার চাতুরী চৌমুহনীতে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল এলাকায় একটি জায়গা ক্রয় করার প্রস্তাব দেন। জসিমের কথায় ইলিয়াছ জাফর সহ আরো ৫ জন যৌথভাবে তা ক্রয় করতে রাজি হয়। তিন কোটি পনের লাখ টাকা মূল্যের ৯০ শতাংশ জায়গাটি কিনতে গত ১৩ নভেম্বর ২০১৭ সালে জসিম, ইলিয়াছ জাফর সহ বাকি পাঁচজনের অংশীদারে ১ কোটি টাকা পরিশোধ করে রেজিস্ট্রার্ড বায়নানামা চুক্তিপত্রনামা (৪৮২২/১৭) দলিল স্থাপন করেন। যে অংশীদারে ইলিয়াছ জাফরের ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা ছিল। দলিলে উলেখ ছিল যে, ৯০ শতাংশ জমির সরকারী কর, খাজনাদি আদায় পূর্বক নির্ভেজাল, নিষ্কন্টক করে দেওয়ার সাপেক্ষে পাওনাদারের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করে জসিম ও ইলিয়াছ জাফর সহ ০৭ জনের নামে রেজিষ্ট্রি দিতে বাধ্য থাকবে বিক্রেতাগণ।
পরবর্তীতে ইলিয়াছ জাফর ব্যাবসায়ীক কারনে বিদেশে অবস্থানরত সময়ে সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করে নেয়ার জন্য বিদেশ হতে জসিম উদ্দীনের ইষ্টার্ণ ব্যাংক লিঃ, জুবলী রোড শাখা, চট্টগ্রাম হিসাব নং- ০০৩১৫১০৫৬৮২৩০ এ বিগত ৭ মে ২০১৮ সালে ৪০,৮০,০০০/- (চলিশ লাখ আশি হাজার) পাঠান।
পরে আসামী জসিমসহ ৭জন অংশীদারের মধ্যে মোঃ মুছা ও মোঃ আবু বক্করের সমন্বয়ে একটি যৌথ একাউন্ট করলে ইলিয়াছ জাফর বিদেশ থেকে বিগত ২০ অক্টোবর ২০১৮ সালে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক লিঃ, মুরাদপুর শাখা, চট্টগ্রামে আরো ৮লাখ টাকা পাঠান।
জমির মূল্য তিন কোটি পনের লাখ টাকা হলে মামলার বাদী ইলিয়াছ জাফরের ভাগে পঁয়তাল্লিশ লক্ষ টাকা পড়লেও জমির মূল্য পরিশোধ এবং
উন্নয়ন কর্মকান্ডে ও অন্যান্য কাজের জন্য খরছ দেখিয়ে তিনি তেষট্টি লাখ আট হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তফসিলোক্ত বায়নাকৃত ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পূনরায় ৬৮.৭৬ শতাংশ জমির মূল্য দুই কোটি চলিশ লাখ ছেষট্টি হাজার টাকা নির্ধারণ করে আগের বায়নাকৃত এক কোটি টাকা নগদে গ্রহন,অবশিষ্ট এক কোটি চলিশ লাখ চেষট্টি হাজার টাকা তিনটি একশো টাকার নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে ইলিয়াছ জাফরের নাম ও দস্তখত জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা প্রাপ্তির তারিখ বিহীন রশিদপত্র তৈরি করেন।
সেই টাকা গ্রহণ করে তফসিলোক্ত সম্পত্তি ইলিয়াছ জাফর সহ ৭জন অংশীদারের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা থাকলেও বিগত ১০ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে আসামী জসিমের কু- প্ররোচনায় অন্যান্য আসামীগণ সকলে বায়নানামায় উল্লেখিত বাদী ইলিয়াছ জাফর সহ ৭জন অংশীদারের নামে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি না দিয়ে গোপনে বাদী ইলিয়াছ জাফরকে না জানিয়ে বরং জসিম উদ্দীনের স্ত্রী ২নং আসামী মোছাম্মৎ রুমা আকতারের নামে সম্পত্তি থেকে ৪৯.১১ শতক সম্পত্তি দলিল (দলিল নং- ১৪৩/১৯) মূলে আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি করেন।
পরবর্তীতে ইলিয়াছ জাফর এ বিষয়ে অন্যান্য আসামীদের সাথে যোগাযোগ করলে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি বিষয়ে তারা কিছুই জানে না বরং সবকিছু জসিম উদ্দীন জানেন বলে জবাব দেন। আসামীদের কথায় সন্দেহ হলে মামলার বাদী ইলিয়াছ জাফর জসিম উদ্দীনকে ১নং আসামী করে মোট২৪ জনকে আসামী করে প্রতারনা,অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রকাশ্য ও গোপনে তদন্ত করা হয়। তদন্তকালীন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশানার মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর/দক্ষিণ), সিএমপি, চট্টগ্রাম মামলার তদন্ত তদারকী করেন বলে জানা যায়। তদন্ত রিপোটের্র উপর ভিত্তি করে প্রতারণার মামলায় মো. জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ২নং আসামী তার স্ত্রী রুমা আকতারের বিরুদ্ধে মহামান্য আদালত সমন জারি করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবি এমজাদ হোসেন বলেন, আসামী জসিম উদ্দীন সু-কৌশলে বাদী মো: ইলিয়াছ জাফরের সাথে প্রতারণা করেছেন। এ জন্য তদন্ত পূর্বক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছেন মহামান্য আদালত, অনুসন্ধানে জানা যায় আসামী জসিম উদ্দিন গ্রেফতার এড়াতে এখন পলাতক রয়েছে।
আপনার মন্তব্য লিখুন