শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার:
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল ভোররাতে প্রথম প্রফেসর ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব করে বার্তা দেয়া হয় আন্দোলনের সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে। পরে বিকালে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেশ করেন ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। বৈঠকে তিন বাহিনী প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান এবং আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামসহ ১৩ জন সমন্বয়ক অংশ নেন। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার ভোররাতে এক ভিডিও বার্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। ভিডিওটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের ফেসবুকে প্রচার করা হয়। ভিডিওতে নাহিদের পাশে আসিফ ছাড়াও আরেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবের জন্য তারা ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। জরুরি পরিস্থিতিতে তারা এখনই একটি রূপরেখা ঘোষণা করছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সর্বজন গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে।
দিতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে লুটপাট, সহিংসতা ও সামপ্রদায়িক হামলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এই ধরনের ঘটনাকে প্রতিহত করার জন্য আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। কেউ যেন এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর সুযোগ না পায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শহীদের রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটিয়েছেন এবং একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু তাদের এই অর্জনকে নস্যাৎ করতে বিভিন্ন শক্তি ইতিমধ্যে তৎপর রয়েছে এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাচ্ছি, এই বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদী সাম্রাজ্য থেকে মুক্ত করার জন্য, একটি নতুন ও জনগণের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সকল ধরনের ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার জন্য বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা সদা প্রস্তুত।
আপনার মন্তব্য লিখুন