রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
এস এম ইরফান নাবিল:
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর, পাহাড়তলী ও খুলশী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু’র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরলেন মনোনয়ন বঞ্চিত ফরিদ মাহমুদ। চট্টগ্রামে যুবলীগের রাজনীতিতে দু’জন একই পথে থাকলেও সংসদ নির্বাচনে এসে তাদের আলাদা যাত্রার বিষয়টি দৃশ্যমান হলো।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানির পর ফরিদ মাহমুদের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও চার কমিশনার আপিল শুনানি করেন। দাখিল করা এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ত্রুটিপূর্ণ থাকার অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়ন ফিরে পাবার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ মাহমুদ দৈনিক সমর পত্রিকাকে বলেন, ‘মহান সৃষ্টিকর্তার দয়া, আমার মায়ের দোয়া ও জনগণের ভালোবাসা আছে আমার প্রতি। সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী চায়, আমি নির্বাচন করি। সবার দোয়ায় আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আগামী ৭ জানুয়ারী জনগণ আমাকে ভালোবাসার প্রতিদান দেবেন, এটা আমার বিশ্বাস।’
২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন দফা অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আফছারল আমীন। চলতি বছরের ২ জুন তিনি মারা যান। শূন্য আসনে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মহিউদ্দিন বাচ্চু।
মহিউদ্দিন বাচ্চু ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন ফরিদ মাহমুদ। উভয়ই ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং প্রয়াত রাজনীতিক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। উভয়ে বিলবোর্ড ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে সম্মেলনের পর চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ থেকে বিদায় নিয়ে দু’জন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
আফছার“ল আমিনের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ফরিদ মাহমুদও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবারও মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন এ আসনে বেশ কয়েকবছর ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এ নেতা। তবে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বতন্ত্র প্রার্থীতা উন্মুক্ত ঘোষণা করলে তিনি নির্বাচনের মাঠে আসেন।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আরও একজন হেভিওয়েট নেতা এম মনজুর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। শিল্পগোষ্ঠী মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ব্যবস্াপনা পরিচালক আওয়ামী ঘরানার মনজুর আওয়ামী লীগের সমর্থনে তিনবার নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতিতে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ‘ভাবশিষ্য’ হিসেবে পরিচিত মনজুর গুর“র সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’র প্রেক্ষাপটে ২০১০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে আবার মেয়র পদে দাঁড়িয়ে হেরে যাবার পর বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগে সক্রিয় হন।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম-১০ আসনে নৌকার মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে স্বতন্ত্র এম মনজুর আলম ও ফরিদ মাহমুদের জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, এমন আভাস মিলছে। উলেখ্য এ আসনে ২৫ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় নেতা, মানবতার ফেরিওয়ালা প্যানেল মেয়র আবদুর সবুর লিটন স্বতন্ত্র প্রাথর্ী হলেও দলের প্রতি সন্মান রেখে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার কওে নিয়েছেন । এলকায় তার জনপ্রিয়তা ছিল সবার উপরে ।
আপনার মন্তব্য লিখুন