রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
বোয়ালখালীর কালাইয়ার হাটে ডাঃ শাহাদাত হোসেন ও আবু সুফিয়ান এর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় বোয়ালখালীর পশ্চিম কধুরখীলে মাওয়া বাগান বাড়িতে ইস্টার্ন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্বোধন বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী২০২২ অনুষ্ঠিত ‘দৈনিক সমর’ এর পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই ঈদ মুবারক এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৯ জুন, রুটিন প্রকাশ আল-ফালাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন। গণজোয়ার সৃষ্টি করে ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির উদ্দ্যেগে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিলে যোগদান বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইমরানের ইনিংসের পতন নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমসাময়িক কৌশল শীর্ষক মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বোয়ালখালী : পাহাড় ও কর্ণফুলি তীর বেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটন শিল্পের অমিত সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

এস এম ইরফান নাবিল :

লুসাই পাহাড়ের বুক চিরে প্রবাহিত কর্ণফুলির তীর ঘেঁষে অবস্থিত প্রাচ্যের রানী চট্টগ্রাম শহরতলীর ঐতিহ্যবাহী বোয়ালখালী উপজেলা। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে সম্ভাবনাময় এ উপজেলায় রয়েছে প্রখ্যাত অলী বু-আলী কালান্দর শাহ (রাঃ) মাজার, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী মেধস মুনির আশ্রম, বৌদ্ধবিহারসহ অসংখ্যা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।কথিত আছে, হযরত বু-আলী কালান্দর শাহ (রাঃ) নামানুসারে এ উপজেলার নামকরণ করা হয়।বোয়ালখালীর পশ্চিমে দেশের একমাত্র বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম, পূর্বে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় করলডেঙ্গা পাহাড়, দক্ষিনে বিপ্লবী মাষ্টারদা সূর্যসেনের জন্মভূমি বৃহত্তর পটিয়া, উত্তর পূর্বে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চল।বোয়ালখালী উপজেলাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম তথা দক্ষিণনাঞ্চলের জনগণের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম বৃটিশ আমলের কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত রেল সড়ক সেতু। এ সেতু একদিকে যেমন যাতায়াত ব্যবস্থা করেছে সহজতর অপরদিকে এ উপজেলাকে করেছে আরও আকর্ষনীয় ও সৌন্দর্যমন্ডিত।

হযরত বু-আলী কালান্দর শাহ(রা:) এর মাজার শরীফ

শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির লীলাভুমি এ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন বৃটিশ সরকার হতে রত্নগর্ভা খ্যাতিপ্রাপ্ত মুক্তকেশী দেবী যাঁরা ১১ জন সন্তানের মধ্যে ডঃ বিভূতিভূষণ সহ ৫ জন ডক্টরেট/ডিএসসি। কিংবদন্তীতুল্য একুশে পদকপ্রাপ্ত মহান ব্যাক্তিত্ব কবিয়াল রমেশ চন্দ্রশীল ও বিনয় বাশিঁ জলদাশ, আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী শিল্পী শেফালী ঘোষ, চলচ্চিত্র শিল্পী কবরী সরোয়ার এবং এ উপমহাদেশের প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এ,কি,এম হারুনুর রশিদ প্রমুখ এ উপজেলারই সন্তান। এছাড়া ডাঃ আহমদ শরীফ এর মত প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও পাকিস্তান আমলে দুুইটি বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি প্রাপ্ত মরহুম এম,এন হক সহ অসংখ্য জ্ঞানীগুনী ব্যক্তি এ উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেছেন।
১৯৮৩ সালে বোয়ালখালী উপজেলা হিসাবে ঘোষনা করা হয়। এর আগে এটি পটিয়া মহকুমার অংশ ছিল। চট্টগ্রাম সিটি কপোররেশন জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বোয়ালখালী। ১৩৭.২৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এ উপজেলায় প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের আবাস। শিক্ষা দীক্ষায় অগ্রসর। এ উপজেলায় রয়েছে প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী কানুনগো পাড়ায় স্যার আশুতোষ সরকারী কলেজসহ ০৪টি কলেজ, ২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি মাদ্রাসা এবঙ ১০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে চট্টগ্রাম শহরের সাথে বোয়ালখালীর যাতায়াত অত্যন্ত সুগম হয়েছে। উপজেলার প্রধান সড়ক বিশেষ করে কানুনগোপাড়া-হাওলা ডি.সি সড়ক, শরৎসেন সড়ক, কালুরঘাট-ভান্ডালঝুড়ি সড়ক সমূহ উন্নয়নের ফলে উপজেলার আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা পূবের্র যে কোন সময়ের তুলনায় সহজতর হয়েছে। এছাড়া নদী পথে যোগাযোগ অন্যতম মাধ্যম হিসাবে ইঞ্জিন চালিত বোট, সাম্পান ও নৌকা উল্লেখযোগ্য।
শিল্পায়নে সম্ভাবনাময় বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডীর পূর্ব কালুরঘাট চরখিজিরপুরে গড়ে উঠেছে রিজেন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড, কনফিডেন্স সল্টসহ বৃহৎ শিল্প কারখানা। এছাড়াও আরো নতুন নতুন শিল্প কারখানা নির্মানাধীন পর্যায়ে।জৈষ্ঠ্যপুরা পাহাড়ে নির্মানাধীন রয়েছে ওয়াসার প্রকল্প।এসব শিল্প কারখানাগুলো প্রতিষ্ঠিত হলে এ এলাকার হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুব-যুবগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে একদিকে যেমন তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে, অপরদিকে ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারের ফলে জনমনে ফিরে আসবে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
ঐতিহ্যবাহী এ উপজেলার জনগণ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের দিক থেকেও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সাংস্কৃতিক অংঙ্গনকে মুখরিত রাখে।
এ উপজেলার করলডেঙ্গা, জৈষ্ঠ্যপুরা ও আমুচিয়ার দৃষ্ঠিনন্দন পাহাড় ও কর্ণফুলি তীর বেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটন শিল্পের অমিত সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। সরকারী ও বেসরকারী উদ্যেগে এখানে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন শিল্প। সৌন্দর্য-পিপাসু মানুষের জন্য এ এলাকা একটি আকর্ষনীয় স্থান।
স্কাউটিং আন্দোলনেও এ উপজেলার গৌরবমময় অবদান রয়েছে। স্কাউটিং কার্যক্রম ছেলে-মেয়েদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, ভাতৃত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুনাবলী অর্জনে ইতিবাচক ভুমিকা পালন করা যাচ্ছে। স্কাউটিং এ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ড অর্জন স্কাউটস আন্দোলন গতিশীলতা এনেছে।

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন


Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD