মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
আজারবাইজানে ফিদে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ অনুর্ধ্ব-১৬ দাবা অলিম্পিয়াড ১ অক্টোবর থেকে মার্কস অ্যাক্টিভ স্কুল দাবা প্রতিযোগিতা-২০২২ : ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ চ্যাম্পিয়ন দূর্ভোগ এড়াতে অভিভাবকদের জন্য বসার স্থান করলেন এমপি মোছলেম উদ্দীন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক শিগগিরই তিস্তা চুক্তি সই হবে: আশা প্রধানমন্ত্রীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান: জরিমানা ৫ হাজার বোয়ালখালীতে দুই শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু শুক্র-শনিবার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ: সরকারি অফিস সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা মুলকুতুর রহমান সড়ক মহল্লা উন্নয়ন পরিষদ কমিঠি গঠিত আজ জাতীয় শোক দিবস: ‘বাংলাদেশের জনক’ বা বঙ্গবন্ধু বলাটা নিতান্তই কম বলা

বিদায় ২০২০, স্বাগত ২০২১

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

ইরফান নাবিল:
২০২০ সাল বিদায় নিচ্ছে। এই বছরটিকে বরণ করার সময় কেউ ভাবেনি যে, বছরটি মানব জাতির জন্য এতটা বিষময় হবে। ২০২০ কাটলো আতঙ্ক, উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে। প্রায় সারা বছরই থাকলো করোনাভাইরাসের মরণ-ভীতি। আগের বছরের একেবারে শেষ দিকে চীনের উহান শহরে যে ভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয়েছিল, তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে খুব সময় লাগেনি। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন ভাইরাসটির নাম দেয় কোভিড-১৯।
২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত শব্দ কোভিড-১৯ বা মরণব্যাধি করোনাভাইরাস। বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছে করোনাভাইরাস। পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠী, প্রায় ৪০০ কোটি মানুষকে মাসের পর মাস ঘরবন্দি থাকতে বাধ্য করেছে এই মহামারি । প্রায় ৮ কোটি মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু বরণ করেছেন প্রায় ১৮ লাখ মানুষ। আরও কত মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে করোনা তার সংহার তাÊব বন্ধ করবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। কারণ এখন দেশে দেশে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রতিদিনই মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, মৃত্যুবরণ করছে।
২০২০কে বিদায় জানাতে মন হয়তো ভারাক্রান্ত হবে কম, কারণ বিশ যে বিষ ছড়িয়েছে বেশি। নতুন বছর ২০২১-কে স্বাগত জানানো হবে আশায় বুক বেঁধে। কারণ একুশ যে আমাদের চেতনার সঙ্গে মিশে আছে। তাই ২০২১ হোক আশা ও প্রেরণার বছর।
নানা ধরনের দুর্যোগ-দুর্বিপাক, মড়ক-মহামারির অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীর আছে। প্রাণঘাতী অসুখও আগে একাধিকবার হয়েছে। মহামারিতে মৃত্যুর ঘটনাও নতুন নয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে পে­গ রোগে বিশ্বের তখনকার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ নিশ্চিহ্ন হয়েছিলেন বলে জানা যায়। ১৯১৮-১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। তারপর এইডস রোগেও ৩ কোটি ৩০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। সে সব তুলনায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও পৃথিবীজুড়ে মানুষের মধ্যে এ নিয়ে যে ভয় ও অসহায় অবস্থা তৈরি হয়েছে তা তুলনাহীন। বিশ্বে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটির কাছাকাছি।

কর্ণফুলি নদীর মোহনায় অস্তাচলে ডুবে গেল বছরের শেষ সূর্য, ছবি: ইরফান নাবিল

এই বিপুল জনগোষ্ঠীর এখন একটাই আশা, করোনা-ঝড় মোকাবিলা করতে সক্ষম হোক মানুষ। বছর বিদায়ের আগেই অবশ্য আশার আলো দেখিয়েছে চিকিৎসা-বিজ্ঞান। বিরুদ্ধ-পরিবেশের কাছে মানুষের পরাভব না মানার যে স্পৃহা তা আবার জয়ী হয়েছে। স্বল্পতম সময়েই আবিষ্কার হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন। কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিনের ব্যবহারও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশও নতুন বছরের শুরুতেই ভ্যাকসিন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমতার ভিত্তিতে সবার কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, এটা কতটা সহজলভ্য হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও আশাহত হওয়ার কিছু আছে বলে মনে হয় না।
১০০ বছর আগে বা তারও আগে পৃথিবীটা এখনকার মতো এত নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ ছিল না। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তথ্যের আদানপ্রদান এখনকার মতো সহজ ছিল না। মহামারির বিস্তার ঘটতেও যেমন সময় লাগতো, তেমনি শঙ্কাও দ্রুত ছড়াতো না। এখন তো পুরো পৃথিবী মানুষের হাতের মুঠোয়। বিপদের কথা যেমন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে, তেমন আশা জাগানিয়া খবরের জন্যও অপেক্ষায় থাকতে হয় না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষ সাধন হয়েছে মানুষের হাত ধরেই, মানুষেরই অব্যাহত চেষ্টায়। আগে কোনো মহামারির ওষুধ আবিষ্কারে যেখানে লাগতো বছরের পর বছর, এখন সেখানে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার সম্ভব হলো কয়েক মাসের চেষ্টায়ও।
মানুষ যেমন মারণাস্ত্র আবিষ্কারে দক্ষতা দেখাতে পারছে, তেমমি জীবন রক্ষার ওষুধ আবিষ্কারও মানুষের সাধ্যের বাইরে নয়। মানুষ মরণশীল হলেও মানুষের অসাধ্য কিছু থাকছে না। পৃথিবীকে বাসঅযোগ্য করার জন্য যেমন কিছু মানুষের দুষ্ট বুদ্ধি দায়ী, তেমনি পৃথিবীকে নতুন করে গড়ে তুলতেও শুভবুদ্ধির মানুষেরাই এগিয়ে আসে। প্রকৃতির সঙ্গে বৈরিতা, নিষ্ঠুরতা করার পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষায়ও উদ্যোগী হচ্ছে মানুষই। তাই মানুষের ওপর বিশ্বাস না হারিয়ে আশায় দিন গুণতে হবে আমাদের। ঝড় যেমন ওঠে, তেমনি ঝড় থেমেও যায়। করোনাকাল নিশ্চয়ই চিরস্থায়ী হবে না। করোনাভীতি কাটিয়ে উঠে হয়তো নতুন কোনো ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভয়ই শেষ কথা নয়। জয়ের হাতছানি থাকেই।
করোনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে কি শিক্ষা আমরা নেবো – সেই প্রশ্নের সঙ্গে এ প্রশ্নও আছে যে, করোনা-পরবর্তী পৃথিবীটা কি করোনা-পূর্ববর্তী পৃথিবীর মতোই থাকবে? ২০২১ সাল কি ২০২০ সালের কার্বন কপি হবে? না। নদীতে এক পানি দুইবার প্রবাহিত হয় না। পবিরবর্তন হলো জীবজগতের বড় বৈশিষ্ট্য। বেশির ভাগ মানুষই পরিবর্তন চায় এবং সে পরিবর্তন অবশ্যই ভালোর দিকে। করোনা সব দেশের সমাজ-অর্থনীতি-রাজনীতিতে কিছু না কিছু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, করবে। করেনাকালে সব কিছু একেবারে থেমে না থাকলেও, অস্বাভাবিক অবস্থা তো তৈরি হয়েইছে।
অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়েছে। মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অনেক মানুষ কর্মহীন হয়েছে। কাজের সুযোগ ও পরিধি সংকুচিত হয়েছে। অনেক মানুষকে বেকারত্বের জ্বালা সহ্য করতে হচ্ছে, হবে। খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে কোথাও কোথাও। দুনিয়াব্যাপীই শিক্ষার্থীদের অবস্থা সবচেয়ে কর“ণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে হয়তো অনেকে ঝরে পড়বে। সমাজে দেখা দেবে সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া। করোনার কারণে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন না, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। ধনী গরিব নির্বিশেষে সব দেশই করোনার ঝাঁকিতে কেঁপেছে। ২০২০ যে দুর্যোগ চাপিয়ে দিয়ে বিদায় নিচ্ছে, ২০২১ তা কতটুকু সামলে উঠতে পারবে, সেটাই দেখার বিষয়।

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন


Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD