শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চসিকের ৬ তলা নগর ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন বাধ্যতামূলক কৃষির মাধ্যমে ২ থেকে ২.৫ কোটি লোকের কর্মসংস্থান করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব নানা আয়োজনে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আনন্দ সম্মিলন সম্পন্ন শ্রমিকদের ঠকিয়ে অর্থনীতির বিকাশ নিশ্চিত করা যাবে না বোয়ালখালী ফোরাম চট্টগ্রামের উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ সম্পন্ন সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহিলা মাহফিল সম্পন্ন বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত কালুরঘাট ফেরিতে হিট স্ট্রোকে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু তীব্র তাপদাহে সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের শরবত বিতরণ

বাধ্যতামূলক কৃষির মাধ্যমে ২ থেকে ২.৫ কোটি লোকের কর্মসংস্থান করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

এম ডি কামাল পাশা:

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এখানে শতকরা ৮০ থেকে ৯০% লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কৃষির সাথে জড়িত। অথচ মোট জমির ৫০% পরিত্যক্ত অবস্ পড়ে থাকে এবং চাষাবাদ করা হয় পুরাতন নিয়মে। যার কারণে উৎপাদন হয় ৪ ভাগের ১ ভাগ, যা আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন হওয়ার কথা তার ৪ ভাগের ১ ভাগ উৎপাদিত হয়, যে উৎপাদন দিয়ে আমরা ৩-৪ মাসও খেতে পারিনা। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ডলারের খাদ্য দ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। এই আমদানির সুযোগে কালো বাজারিরা হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতিবছর বিদেশে পাচার করে। অপর দিকে দেশে রিজার্ভের পরিমাণ কমে যায়। যে কারণে অর্থনৈতিক ভাবে দেশ বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ কৃষি জমি রয়েছে তা শ্রেণী বিন্যাস করে যেমন- সমতল ভূমি, পাহাড়িয়া অঞ্চল, জলাশয়, শিল্প অঞ্চল, আবাসিক অঞ্চল, খাস জমি। এভাবে শ্রেণিবিন্যাস করে চাষ করলে দেশের খাদ্যের চাহিদা মিটিয়েও প্রচুর খাদ্য সামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। যেমন: সমতল ভূমি হলে ধান, গম, ভূট্টা যা চাষ করা যায় তা চাষ করতে হবে। পাহাড়িয়া অঞ্চল হলে গাছপালা, ফলমূল, বিভিন্ন রকম মসলা ও রবিশস্য চাষ করতে হবে। শিল্প অঞ্চল হলে শিল্প কারখানা না হওয়া পর্যন্ত কৃষির আওতায় থাকবে। শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে ছাদ কৃষি বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হবে। আবাসিক অঞ্চল হলে আবাসিক এলাকায় আবাসিক বাড়ি-ঘর না হওয়ায় পর্যন্ত চাষের আওতায় থাকবে। বাড়িঘর হওয়ার পর ছাদ কৃষি বাধ্যতামূলক করতে হবে। খাস জমি, বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ একর খাস জমি আছে, যা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যার কারণে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে অপর দিকে উৎপাদনও হচ্ছে না। তাই খাস জমি গুলোকে ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে একশনা লিজ দিয়ে চাষাবাদ করতে হবে। তখন একদিকে দেশ রাজস্ব পাবে অপর দিকে ভূমিহীন কৃষকদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশে উৎপাদনও বাড়বে। জলাশয়, বাংলাদেশে ব্যক্তি মালিকানায় প্রচুর জলাশয় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই সব জলাশয় বাধ্যতামূলক মাছ চাষের আওতায় আনতে হবে। প্রতিবছর বিদেশ থেকে প্রচুর মাছ আমদানী করতে হয়। যার কারণে কোটি কোটি ডলার বিদেশে চলে যায়। তাই সরকারকে জমি শ্রেণীবিন্যাস করে চাষ বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোন বছর জমি চাষ না করলে সাথে সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা করতে হবে। দ্বিতীয় বছরও যদি জমি অনাবাদী রাখে তাহলে জমি সরকারের জিম্মায় চলে যাবে। যা খাস জমি হিসাবে বিবেচিত হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় থাকবে সরকারের কোষাগায়ে জরিমানা জমা দিয়ে পুনরায় সরকার থেকে লিজ নিতে হবে। এই নিয়ম চালু করতে পারলে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুন তিনগুন বৃদ্ধি পাবে। ২ থেকে ২.৫ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। বিদেশ থেকে আর খাদ্য সামগ্রী আমদানী করতে হবেনা বরং দেশের উদ্বৃত্ত খাদ্য সামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করে দেশে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যাবে। এইসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারকে স্থায়ীভাবে কিছু পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে। যার মধ্যে ১ম ধাপ হলো দেশের কৃষি ব্যাংকগুলোকে আরো ঢেলে সাজাতে হবে, যেন প্রকৃত কৃষকেরা সহজে কৃষি কাজের জন্য ঋণ পাই। প্রতিটি এলাকায় কৃষি অফিসারদেরকে আধুনিক যন্ত্রপাািত ও চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে হবে, যেন তারা আমাদের কৃষকদের চাষের বিভিন্ন বিষয়গুলো এবং আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে পারে। ফসল উৎপাদিত হওয়ার পর উৎপাদন খরচ হিসাব করে তার সাথে ২৫% লাভ যোগ করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে করে কৃষকেরা চাষাবাদে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠে। পণ্যের মূল্য নির্ধারণের পর মানুষের মধ্যে যে সকল পণ্য ক্রয় বিক্রয় হবে এর বাহিরে যে সকল পণ্যে উদ্ধৃৎ থাকবে তা ন্যায্য মূল্যে সরকার কিনে নিয়ে সরকারি গোডাউন বা বিদেশে রপ্তানী করতে হবে, যেন মজুদের কারণে কৃষি উৎপাদন বন্ধ না হয়। এই কৃষি কাজের তদারকি করার জন্য প্রয়োজনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীকে সরকার কাজে লাগাতে পারে। এই কৃষি কাজের প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। তাই সরকারকে এখনি আমাদানি নির্ভর না হয়ে স্থায়ী ভাবে কৃষির মাধ্যমে খাদ্য দ্রব্যের সমাধা করতে হবে।
লেখক : অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল পাশা:
B.COM (HONS, M.COM(Accounting), HEAD OF ACCOUNTING DEPARTMENT, CHATTOGRAM COMMERCE COLLEGE. কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব – ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন


Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD