রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৮:১১ অপরাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
বোয়ালখালীর কালাইয়ার হাটে ডাঃ শাহাদাত হোসেন ও আবু সুফিয়ান এর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় বোয়ালখালীর পশ্চিম কধুরখীলে মাওয়া বাগান বাড়িতে ইস্টার্ন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্বোধন বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী২০২২ অনুষ্ঠিত ‘দৈনিক সমর’ এর পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই ঈদ মুবারক এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৯ জুন, রুটিন প্রকাশ আল-ফালাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন। গণজোয়ার সৃষ্টি করে ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির উদ্দ্যেগে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিলে যোগদান বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইমরানের ইনিংসের পতন নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমসাময়িক কৌশল শীর্ষক মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আম্রপালির ইতিহাস

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

মিনহাজুল ইসলাম মাসুম:
ফলের রাজা আম (Mango)। অত্যন্ত সুস্বাদু একটি ফল। আমের বৈজ্ঞানিক নাম (Mangifera Indica) । পৃথিবীতে প্রায় কয়েকশ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাত যেমন: হিমসাগর, চোষা, বউ সোহাগী, ফজলি, নাগ ফজলি, আলতাপেটি, রানি পছন্দ, দুধ সর, আম্রপালি, লক্ষ্মণভোগ, মলি­কা, মিছরি দানা , ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, অরুনা, সুবর্ণরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, গোপাল খাস, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, হাড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী ইত্যাদি। বাংলাদেশের সবজেলায় আম গাছ দেখা যায়। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষ বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে। আলোচ্য বিষয় আম্রপালি নিয়ে। কেউ কেউ বলেন, আম রূপালী। কেন বলেন জানি না। হয়তো আম রূপালী বলে মনে মনে সান্ত্বনা বা বুঝ পেতে চায়! আমি নিজেও কিন্তু অনেক ভেবেছি এ নাম কেন?
ঔপন্যাসিক ও লেখক হরিশংকর জলদাস তাঁর বইতে লিখেন, ‘আম্রপালি’ বৌদ্ধযুগের স্মরণীয় গণিকা। বৈশালীর এই প্রখ্যাত গণিকা রাজা বিম্বিসারের প্রণয়িনী ছিল। এই বেশ্যাই ভগবান বুদ্ধের সংস্পর্শে এসে দীর্ঘকালের বৃত্তি ত্যাগ করে।
(দেখুন, বাংলা সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ-হরিশংকর জলদাস, পৃষ্ঠা-২৩)
আসুন আম্রপালি/আম্রপালী বেশ্যারূপ এবং আমরূপ এই দুইয়ের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।
Āmrapālī, also known as “Ambapālika”, “Ambapali”, or “Amra” was a celebrated nagarvadhu of the republic of Vaishali in ancient India around 500 BC. Following the Buddha’s teachings, she became an arahant.
অর্থাৎ আম্রপালি, অম্বপালিকা, অম্বপালি বা অম্র নামেও পরিচিত। খৃস্টপূর্ব ৫০০ বছর আগে প্রাচীন ভারতের বৈশালী রাজ্যের বরণীয় নগরবধু বা গণিকা ছিলেন। বুদ্ধের শিক্ষা মেনে তিনি ‘অর্হত’ হয়েছিলেন।
আম্রপালি গণিকা/বেশ্যারূপে:
ভারতের বিহারে প্রাচীনকালে বৃজি নামের একটি রাজ্য ছিল। এই রাজ্যের রাজধানী ছিল বৈশালী। বৈশালীর রাজোদ্যান নামক স্থানে আম্রবৃক্ষের পাদমূলে অম্বপালি নামে এক মেয়ে শিশুর জন্ম হয়েছিল। পালিভাষায় আম্রকে ‘অম্ব’ বলা হয়। নগরের বাগান মালি এই অম্বপালির ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। আম্রদান পালকের কন্যা বলে তার নাম হয় অম্বপালি বা আম্রপালি। বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে আম্রপালি অনিন্দ্য সুন্দরী হয়ে স্বগের্র অপ্সরার ন্যায় হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে আম্রপালি রাজ্যের সভানর্তকী পদে বরিত হন। সে আমলে বৈশালীতে আইন ছিলো, সুন্দরী নারীরা কখনও পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হতে পারবে না। জনসাধরণেরর আনন্দের জন্য তাঁকে উৎসর্গ করা হবে। আম্রপালি ছিলেন অনিন্দ্য সুন্দরী। নৃত্য, গীত ও বীণাবাদনে বেশ পারদর্শী ছিলেন। তিনি পালি ভাষায় কাব্যচর্চাও করতেন। সেকালের অনেক রাজণ্যবর্গ তার ভক্ত অনুরাগী ছিলেন। রাজা বিম্বিসার নিজেও আম্রপালির গুণমুগ্ধ ছিলেন। পরবর্তীতে আম্রপালি গৌতম বুদ্ধের বাণী শুনে ভিক্ষুণী সংঘে যোগ দেন।
আম্রপালি আমরূপে:
এটি অত্যন্ত উৎকৃষ্ট, বেশ মজার একটি শংকর জাতের আম। উত্তর ভারতের (লক্ষ্মৌ অঞ্চল) বিখ্যাত আম দু’সেহরী এবং দক্ষিণ ভারতের অপর একটি বিখ্যাত জাত নীলম। এই দুইটির মধ্যে শংকরায়ণ ঘটিয়ে আম্রপালির জন্ম দেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা নীলম জাতের পুরুষ মুকুল এবং দু’সেহরী জাতের স্ত্রী মুকুলের মধ্যে পরাগায়ণ ঘটিয়ে সৃ্ষ্টি করেছেন অভিজাত শ্রেণির আম আম্রপালি। ১৯৭৮ সালে প্রথম এ আমটির নামকরণ হয় ভারতে। বিজ্ঞানীরা আমটির নামকরণ করে আম্রপালিকে অমরত্বদান করেছেন। আম্রপালি তার পিতৃ ও মাতৃ গুণের (দু’সেহরী ও নীলম) চেয়ে অনেক উন্নত। ফলটি দেখতো লম্বাটে নিম্নাংশ অনেকটা বাঁকানো। আম্রপালি দুই জাতের রয়েছে। পাকলে খুব সুন্দর রং ধারণ করে। ত্বক মসৃণ এবং খোসা পাতলা হয়। আমটি অত্যন্ত রসালো, সুস্বাদু এবং সুগম্ধযুক্ত হয়। আঁশ বিহীন অত্যন্ত কড়া মিষ্টির এই গাছ বামন আকৃতির। বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সফল এবং বাংলাদেশে বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় আম হচ্ছে আম্রপালি।
মহাপরিনির্বাণ সূত্রকথা:
বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ ‘মহাপরিনির্বাণ সূত্র’ থেকে জানা যায়, ‘একদা আম্রপালী এক অর্হত ভিক্ষুনীকে বেশ্যা বলিয়া তিরস্কার করায় বাচনিক অভিশাপে মরনান্তে ভয়ানক নিরব যন্ত্রণা ভোগ করিয়া দশ সহস্র জন্ম গণিকাবৃত্তি করিতে হইয়াছিলো। ভগবান কস্যপ সম্যক সম্বুদ্ধের সময় তিনি ব্রহ্মচর্য ধর্ম প্রতিপালন করিয়া মরনান্তে ত্রয়স্ত্রিংশ দেবপুরে উৎপন্ন হইয়াছিলো। তথা হইতে চ্যুত হইয়া আম্রশাখান্তরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রত্যেক জন্মেই পূবর্ক্ষ প্রার্থনানুযায়ী পরমা রূপবতী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। এভাবে পাপনিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত গণিকাবৃত্তি অবলম্বন করিতে হইয়াছে। এভাবে সুচরিত কম্মের প্রভাবে পরমা সুন্দরী হইয়া ও নানাগুণে গুণাবলি অর্জন করিয়া বৈশালী নগরের প্রধান বারাঙ্গনা হইয়াছিলেন। পরবর্তীতে ভগবান বুদ্ধের অশীতি বছর বয়সে আম্রপালী উপবনে সঙ্গ লাভ করিয়া ধর্ম শ্রবণ করিয়া শ্রদ্ধা লাভ করেন। এরপর বুদ্ধসংঘের সদস্যদের নিমন্ত্রণ করিয়া, আরামের ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ সমস্ত ঐশ্বর্য দান করিয়াছিলেন। এভাবে ষড়াবিজ্ঞসম্পন্ন এবং অর্হত হইয়াছিলেন। ‘তথ্যঃ ১। বাংলা সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ -হরিশংকর জলদাস ২। ম্যাঙ্গোনিউজ২৪.কম ৩। মহাপরিনির্বাণ সূত্র ৪। উইকিপিডিয়া.কম। লেখক: প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন


Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD