শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চসিকের ৬ তলা নগর ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন বাধ্যতামূলক কৃষির মাধ্যমে ২ থেকে ২.৫ কোটি লোকের কর্মসংস্থান করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব নানা আয়োজনে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আনন্দ সম্মিলন সম্পন্ন শ্রমিকদের ঠকিয়ে অর্থনীতির বিকাশ নিশ্চিত করা যাবে না বোয়ালখালী ফোরাম চট্টগ্রামের উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ সম্পন্ন সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহিলা মাহফিল সম্পন্ন বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত কালুরঘাট ফেরিতে হিট স্ট্রোকে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু তীব্র তাপদাহে সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের শরবত বিতরণ

রোববার বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ জেলায় ৪৮ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...


আইয়ুব আলী:
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার পরিবহন শ্রমিকদের মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে ৫ জেলায় ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণপরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

আগামীকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি জেলায় ৪৮ ঘণ্টার শুরু হবে বলে জানিয়ছেন পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মুছা।

আজ শনিবার দুপুরে নগরীর বিআরটিসি মার্কেটে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণপরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ এর অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরী সভা শেষে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা মৃণাল চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা।

পরিষদের সদস্য সচিব মো. মুছা বলেন, “চার দফা দাবিতে আমরা যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত বাস, মিনিবাস, কোচ, টেম্পো, অটোরিকশা সহ সব ধরণের গণপরিবহনে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে।

” বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরও আমাদের দাবিগুলোর সুরাহা হয়নি তাই বাধ্য হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করতে হলো।”

উল্লেখ্য ,গত২২এপ্রিল সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সেলিনা কাদের চৌধুরী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ‘শাহ আমানত’ পরিবহনের একটি বাসের সাথে একটি মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুজন ছাত্র নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন।

সোমবার রাতে ছাত্র নিহত হওয়ার খবর জানা গেলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের চুয়েট সংলগ্ন অংশে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। সেদিন ‘শাহ আমানত’ পরিবহনের কয়েকটি বাস আটক ও ভাংচুর করা হয়।

সোমবার থেকে প্রতিদিন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই ঘটনা নিয়ে বৈঠক হয়। এতে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, সড়ক সম্প্রসারণসহ বেশকিছু দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

বুধবার নগরী থেকে দুর্ঘটনার সময় শাহ আমানত পরিবহনের সেই বাসটির চালক তাজুল ইসলমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবারও আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে অনড় থাকে।

শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন চলাকালে এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারো গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য চুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দেয়।

এরপর সেদিন উপাচার্যসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ করে আন্দোলনকারী। এসময় তারা চুয়েটের সবগুলো বিভাগে তালা দেয়। ছাত্রাবাস ত্যাগে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানের পর চুয়েট কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত বদলে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাসে থাকার অনুমতি দেয় শুক্রবার।

এরপর শনিবার সকাল থেকে আবারও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

তারপর শনিবার দুপুরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণপরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ জরুরী সভায় বসে ধর্মঘটের ডাক দিলো।

পরিষদের চার দফার বিষয়ে সদস্য সচিব মোহাম্মদ মুছা বলেন, “প্রথম দফা হলে বিভিন্ন সময় জেলার বিভিন্ন পোস্ট ও স্টেশন থেকে লাইনম্যানসহ অনেক পরিবহন শ্রমিককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়, মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। এমনকি যাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই তাদেরও মামলার আসামি করা হয়।

” কখনো গাড়ি পার্কিং, কখনো কাগজ না থাকা এমন সব অহেতুক অযুহাতে ধরে নিয়ে যায়। পরিবহন শ্রমিকদের পকেটে থাকা টাকা কেড়ে নিয়েও তাদের হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়। শফি নামে আমাদের এক পরিবহন শ্রমিক নেতাসহ কয়েকজন এখনো জামিন পায়নি।”

পরিষদের দ্বিতীয় দফার বিষয়ে মোহাম্মদ মুছা বলেন, “কয়েকদিন আগে চুয়েটের তিনজন শিক্ষার্থী একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পড়েন। এতে আমরা মর্মাহত। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা সড়ক অবরোধ, গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

“ওই ঘটনায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বৈঠকের পরেও সেসব সিদ্ধান্ত না মেনে সড়কে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন


Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD